ঊড়জা ২০১৭ সিএপিএফএস অনুর্দ্ধ-১৯ ফুটবল প্রতিভা সন্ধান টুর্ণামেন্ট
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ, 24/04/2017, আগরতলা

সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনি (বি এস এফ)-এর ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার ২০১৭-র ১ থেকে ১০ মে পর্যন্ত প্রথম পর্বে “ঊড়জা ২০১৭ সিএপিএফএস অনুর্দ্ধ-১৯ ফুটবল প্রতিভা সন্ধান টুর্ণামেন্ট”-এর আয়োজন করছে। এই টুর্ণামেন্টের প্রথম পর্বে ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও স্পোর্টস ক্লাবের মোট ১৬-টি ফুটবল দল অংশগ্রহণ করবে এবং এই ১৬-টি দলের মধ্যে ৮-টি করে বালক ও বালিকাদের দল রয়েছে। আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে ২০১৭-র ১ মে বেলা ৩-টায় মাননীয় রাজ্যপাল শ্রী তথাগত রায় এই টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করবেন। ২০১৭-র অক্টোবর মাসে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ভারত অনুর্দ্ধ-১৭ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের আয়োজন করবে। এই ফুটবল টুর্ণামেন্টের সাফল্যমন্ডিত আয়োজনের উপর গুরুত্ব দিতে গিয়ে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দেশে ফুটবলের চূড়ান্ত বিন্দুতে পরিবর্তন আনার জন্য ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অবশ্যই একটি অণুঘটক, যা একে কেন্দ্র করে একটি গণ আন্দোলন সৃষ্টির মাধ্যমে করা যেতে পারে। এই কারণেই এই টুর্ণামেন্টের জন্য “ঊড়জা ২০১৭-সিএপিএফএস অণুর্দ্ধ-১৯ ফুটবল প্রতিভা সন্ধান টুর্ণামেন্ট” নামটি প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে।

দেশের প্রতিটি বালক-বালিকাকে ফুটবল খেলার শুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য মনে রেখে এই টুর্ণামেন্টটি বিন্যস্ত করা হযেছে। সারা দেশের অন্তত: ১১ মিলিয়ন বালক-বালিকাকে অনিন্দ্যসুন্দর ক্রীড়া ফুটবলের অঙ্গনে নিয়ে আসার লক্ষ্যে ফিফা অনুর্দ্ধ-১৭ ওয়ার্ল্ড কাপ “মিশন ১১ মিলিয়ন”-এর উত্তরাধিকার কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফুটবলের প্রতি উৎসাহ সৃষ্টি করতে, আমাদের দেশের সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের এশিয়ান চেম্পিয়ানশিপ-এ প্রতিনিধিত্ব করতে নির্বাচন করার জন্য এবং তরুণ ও উদীয়মান খেলোয়াড়দের সিএপিএফএস-এ নিয়োগ করতে এই টুর্ণামেন্টের অভীষ্ট লক্ষ্য মিশন ১১ মিলিয়ন-এর অংশ হয়ে উঠবে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রক (এম এইচ এ)-এর নির্দেশনাক্রমে, “অল ইন্ডিয়া পুলিশ স্পোর্টস্‌ কন্ট্রোল বোর্ড”-এর তত্ত্বাবধানে সি এ পি এফ এস-এর দ্বারা যৌথভাবে অনুর্দ্ধ-১৯ ফুটবল টুর্ণামেন্ট (বালক ও বালিকা)-এর আয়োজন করা হচ্ছে। বালক ও বালিকাদের জন্য পৃথক ম্যাচ ধার্য করে এই টুর্ণামেন্ট ৩-টি পর্বে আয়োজন করা হবে। প্রথম পর্ব পরিচালনা করা হবে ২০১৭-র ১ থেকে ১০-মে পর্যন্ত, দ্বিতীয় পর্ব হবে ২-১৭-র ৮ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত এবং তৃতীয় পর্ব ২০১৭-র ৮ ঢথেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্বে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভিত্তিক সিএপিএফএস-এর দায়িত্ব এই টুর্ণামেন্ট পরিচালনা করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

প্রথমপর্বে ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট, কর্ণাটক, পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সহ ৭-টি রাজ্যে ম্যাচ পরিচালনা করবে বি এস এফ এবং প্রত্যেক রাজ্য থেকে ৮-টি করে বালক ও বালিকাদের দল থাকবে। প্রথম পর্ব সমাপনের পর প্রতিটি রাজ্য থেকে বালক ও বালিকাদের উভয়ের জন্য একটি সমন্বিত দল দ্বিতীয় পর্বের জন্য সারা ভারত থেকে মোট ৩৬-টি দলকে নির্বাচিত করা হবে। দ্বিতীয় পর্বে নির্বাচিত দলগুলিকে ছয়টি জোন বা অঞ্চলে গোষ্ঠিভুক্ত করা হবে এবং প্রত্যেক সিএপিএফএস তাদের প্রতি পদত্ত জোনের দায়িত্ব অনুযায়ী ম্যাচ পরিচালনা করবে। দ্রিপুরা দল-কে শিলং-এ মেঘালয় জোনে-র গোষ্ঠিভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বের প্রতিটি জোনের সেরা দল অর্থাৎ তৃতীয় পর্বের জন্য ৬-টি দলের একটি হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করবে। তৃতীয় পর্বের ম্যাচগুলি দিল্লিতে যৌথভাবে পরিচালনা করবে এস এস বি এবং সি আর পি এফ। এই টুর্ণামেন্টের প্রতীক বা মাসকট হল “গাবরু” নামের একটি শাবক। টুর্ণামেন্টের জন্য “ঊড়জা-২০১৭” শীর্ষক একটি লোগো-ও প্রকাশ করা হয়েছে।

এই টুর্ণামেন্ট ত্রিপুরা রাজ্যে প্রথম পর্বে সাবলীলভাবে পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হযেছে। দ্বিতীয় পর্বের জন্য দল নির্বাচন করতে পৃথক জুরি অব আ্যাপিল বা বিচারক মন্ডলী গঠন করা হয়েছে। ম্যাচ-গুলি অনুষ্ঠিত হবে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান এবং আসাম রাইফেলস্ ময়দানে। প্রথম পর্বের জন্য বিজয়ী দলের ক্ষেত্রে পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০,০০০ টাকা, রানার্স আপ দলের ক্ষেত্রে-এর অর্থমূল্য ৩০,০০০ টাকা এবং তৃতীয় স্থানাধিকারীর ক্ষেত্রে ২০,০০০ টাকা। প্রতিটি পর্বে বিজয়ী দলকে একটি রানিং ট্রফি দিয়ে পুরষস্কৃত করা হবে। ত্রিপুরায় বালকদের জন্য এই বিজয়ী ট্রফির নামাকরণ করা হয়েছে “রাজু ঘোষ ট্রফি” এবং বালিকাদের ট্রফির নাম “গুল্টি চৌধুরি ট্রফি”। এছাড়াও টুর্ণামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক এবং সেরা গোলদাতার জন্য থাকবে ট্রফি/পুরস্কার। বালক ও বালিকাদের দলের নাম এবং নির্ধারিত ‘পুল’ নিম্নরূপ:বালক এইসব ফুটবল দলের সঙ্গে তাদের ম্যানেজার, কোচ ও অন্যান্য কর্মীদেরও আগরতলার শহীদ ভগৎ সিং যুব আবাসে যথাযথভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এই টুর্ণামেন্ট আয়োজনের সঙ্গে এছাড়াও যুক্ত রয়েছে ত্রিপুরা স্পোর্টস্ স্কুল, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর, ত্রিপুরা রাজ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া, ত্রিপুরা স্টেট পুলিশ এবং আসাম রাইফেলস্। ত্রিপুরায় এই টুর্ণামেন্ট সাবলীলভাবে পরিচালনা করতে বি এস এফ-এর প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, গেইল অব ইন্ডিয়া, এল আই সি অব ইন্ডিয়া এবং ইউকো ব্যাঙ্কের মতো বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও সরকার অধিগৃহীত সংস্থাসমূহ। বিএসএফ-এর ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার-এর সদর দপ্তরের জনসংযোগ আধিকারিক এক সংবাদ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।